খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

আলমগীর হুসাইন: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীজুড়ে ছিল তাকে শেষবারের মতো দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল।
দিনভর নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা, শ্রদ্ধা নিবেদন ও দাফনের কার্যক্রম। তার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয় এবং জানাজার দিন সারাদেশে সাধারণ ছুটি পালন করা হয়।

সকাল নয়টার আগে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে লাল-সবুজের পতাকায় মোড়ানো অ্যাম্বুলেন্সে করে খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশানের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে দলের নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মরদেহ নিয়ে আসা হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার জন্য নির্ধারিত স্থানে।

জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নারীদের জন্য জানাজায় আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধিরাও। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তার মৃত্যুতে শোকের আবহ দেখা যায়।

বিকেলে জানাজা শেষে লাশবাহিনী গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় জিয়া উদ্যানে। সেখানে দোয়া ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় রাজনীতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও শাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে সরকারি-আধাসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে।




