গুমের শিকার ৭ পরিবারের পাশে বিএনপি
স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে বংশালে ‘ফ্যাশন পার্ক’ উদ্ভোধন করলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও ইসহাক সরকার
আলমগীর হুসাইনঃ রাজধানীর বংশালে গুমের শিকার সাতটি পরিবারের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে চালু হলো নতুন অনলাইন শপ ও শোরুম ‘ফ্যাশন পার্ক’। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে নর্থ সাউথ রোডের নতুন চৌরাস্তার এই শোরুমের উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার।
এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে। আয়োজকরা জানান, গুমের শিকার পরিবারগুলোর জীবিকার পথ সুগম করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, “গুম হওয়া পরিবারের বেদনা ভাষায় প্রকাশের মতো নয়। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন এর বিচার হবেই, ইনশাআল্লাহ।”
ইসহাক সরকার জানান, “এই দোকান থেকে কেনাকাটার মাধ্যমে সবাইকে আহ্বান জানাই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের কষ্টের গল্প তুলে ধরেন। পারভেজ হোসেন (বংশাল): ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে নিখোঁজ। স্ত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, “সন্তানদের নিয়ে জীবন চালানো দুঃসহ, আমরা বিচার চাই।”
সেলিম রেজা পিন্টু (সূত্রাপুর): ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর গুম হন। বড় ভাই ইসলাম রেজা জানান, “মায়ের চোখে এখনও পানি শুকায়নি। সত্য জানতে চাই।”
মাহফুজুর রহমান সোহেল (বংশাল): তার মেয়ে শাফা আবেগে বলেন, “আমি শুধু বাবাকে ফিরে চাই।”
চঞ্চল কাজী (বংশাল): স্ত্রী রেশমা আক্তার বলেন, “প্রতিদিন ভয়ে কাটে, বিচার পেতে চাই।”
হাবিবুল বাসার জহির (বংশাল): পরিবার জানায়, “একসাথে চারজনকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, আজও কোনো খবর নেই।”
সম্রাট মোল্লা (সূত্রাপুর): পরিবার জানায়, “একদিন বের হয়েছিলেন, আর ফিরে আসেননি।”
খালেদ হাসান সোহেল (সূত্রাপুর): পরিবারের দাবি, “ঘরে শুধু কান্না, কোনো উত্তর নেই। আমরা সত্য জানতে চাই।”
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন বংশাল থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. রাশেদ, আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান দিপু, এম এ মান্নান হীরা, শামসুর রহমান রকিব, দ্বীন ইসলাম, রায়হান সেন্টু, যুবদল নেতা মো. পারভেজ প্রমুখ।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বংশাল ও সূত্রাপুরের গুমের শিকার পরিবারগুলোর জীবিকা নির্বাহের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদের ন্যায্য বিচারের দাবিকে জনসমক্ষে তুলে ধরা।



