সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক
বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠনের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি আগামী তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আজ মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, বদলি ও শৃঙ্খলাবিধি সম্পর্কিত সব দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত থাকবে। পাশাপাশি ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী রিট আবেদন করেন। তারা বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশও চান।
রিটে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধির ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। তবে ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক’ শব্দগুলো যুক্ত হয়। আপিল বিভাগ পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনী আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।
ঐ রায়ের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সুপ্রীম কোর্ট ( আপীল বিভাগ) আইনজীবী আবু জাফর মানিক বলেন, ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদে সংশোধিত বিধান পুনরায় প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, যা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের পর হাইকোর্ট আজকের রায় ঘোষণা করল। এর ফলে অধস্তন আদালতের উপর থেকে মন্ত্রণালয়ের অবৈধ প্রভাব দূরীভুত হল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ প্রশস্থ হলো।



