নির্বাচনে ভয় পাচ্ছে জামায়াত, রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের আভাস

আলমগীর হুসাইনঃ বাংলাদেশের রাজনীতিতে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সমঝোতার প্রচেষ্টা ব্যর্থতার মুখে পড়তে যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি মহলের চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রধান তিন শক্তির বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়ছে। সমঝোতার আলোচনা এখন পরিণত হয়েছে শর্তের লড়াইয়ে।

প্রতিদিন অনানুষ্ঠানিক বৈঠক চললেও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না ঐকমত্য কমিশন। মূল বিরোধ পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতি এবং উচ্চকক্ষ নিয়ে। বিএনপি সাফ জানিয়েছে, তারা এসব প্রস্তাব মানছে না। অপরদিকে, জামায়াত ও এনসিপি বলছে, এই পদ্ধতি ছাড়া তাদের নির্বাচনে যাওয়া সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে স্পষ্ট শঙ্কা বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করবে এবং তাতে অভ্যুত্থান থেকে সংগৃহীত তাদের প্রতিষ্ঠানগত ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াত অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী। দেশের অন্তত ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তা, এমনকি কেবিনেট সেক্রেটারিও তাদের ঘনিষ্ঠ। মাঠ প্রশাসন এবং অর্থনীতির অনেক অংশেও তাদের প্রভাব বিস্তার ঘটেছে।

এই বাস্তবতায় বিএনপি ক্ষমতায় এলে জামায়াতের এই অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এই ভয় থেকেই জামায়াত প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শর্ত দিয়ে আলোচনা জটিল করে তুলছে। তারা চাইছে বিএনপি পিছু হটুক, কিন্তু বিএনপিও নিজেদের অবস্থানে অনড়।

একটি অদৃশ্য শক্তি দুই পক্ষকেই অনড় থাকতে বলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এর পেছনে হয়তো কোনো বৃহৎ পরিকল্পনা বা “গেইম প্ল্যান” রয়েছে।

অন্যদিকে, এনসিপির সমস্যাও কম নয়। দলটি এখনও পুরোপুরি সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত নয়, এমনকি দলটির নিবন্ধনও হয়নি। দুর্নীতি ও অভ্যন্তরীণ সংকটে তারা প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। দলটির দুই উপদেষ্টাকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। এনসিপির ধারণা, এখনই নির্বাচন হলে তারা ভালো ফল করতে পারবে না।

এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম ইতিমধ্যেই আভাস দিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হয়তো পিছিয়ে যেতে পারে। ফলে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক কাঠামো নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

বিএনপি এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্নের মুখে। কারণ, নির্বাচন ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প কোনো পথ নেই। কিন্তু নির্বাচন না হলে শুধু বিএনপি নয়, জামায়াত ও এনসিপিও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনীতিকে নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, জনগণের হতাশা থেকে সহিংসতা, এমনকি গৃহযুদ্ধেরও আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে উগ্রবাদীদের উত্থান কিংবা সামরিক হস্তক্ষেপের পথ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button