কারা থাকছেন তারেক রহমানের কেবিনেটে

আলমগীর হুসাইন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত একটি ‘ছোট কিন্তু কার্যকর’ কেবিনেট। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এই তিন মানদণ্ডকে সামনে রেখে মন্ত্রী বাছাই করতে চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ২১৩টি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৮টি আসন এবং তারা বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন এমন আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামও রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় আছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মধ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।
নির্বাচনে অংশ না নেওয়া নজরুল ইসলাম খান, শামসুজ্জামান দুদু ও রুহুল কবির রিজভীকে টেকনোক্র্যাট কোটায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা রয়েছে।
জোটের পক্ষ থেকে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরের নামও আলোচনায় আছে।
বিএনপির নির্বাচিত নেতাদের মধ্যে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিতে পারেন আবদুল আউয়াল মিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, মনিরুল হক চৌধুরী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মো: ফজলুর রহমান, আসাদুল হাবিব দুলু, জহির উদ্দিন স্বপন, আরিফুল হক চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, তাহসিনা রুশদির লুনা, আফরোজা খানম রিতা, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মো: শরিফুল আলম, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, দীপেন দেওয়ান, শামা ওবায়েদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, মিয়া নুরুদ্দিন অপু, রকিবুল ইসলাম বকুল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আজিজুল বারী হেলাল, খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান, হুমাম কাদের চৌধুরী, শেখ ফরিদ আহমেদ, ফারজানা শারমীন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মীর হেলাল, শেখ ফরিদুল আলম, নুরুল ইসলাম নয়ন, এস এম জাহাঙ্গীর ও ইলেন ভুট্টো।
দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক ও দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীনকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় জায়গা দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিতর্কিত কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখতে চান না তারেক রহমান। প্রত্যেকের রাজনৈতিক অতীত ও ভাবমূর্তি পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনৈতিক সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
বিজয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সরকার কাজ করবে। আর সালাহউদ্দিন আহমেদের ভাষায়, নতুন সরকারের লক্ষ্য হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও দুর্নীতি নির্মূল।
সব মিলিয়ে, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি কার্যকর মন্ত্রিসভার দিকেই এগোচ্ছে বিএনপি এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে দলীয় সূত্রগুলো।



