এই নির্বাচন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই: সাইফুল হক
ঢাকা-১২ আসনে কোদাল প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায়

আলমগীর হুসাইন: ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি সমর্থিত কোদাল প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব সাইফুল হক শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিনব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় অবস্থান নেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের পক্ষে জনমত গড়ে তোলাই ছিল এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে আছরের নামাজ পর্যন্ত তিনি পূর্ব রাজাবাজার, পশ্চিম রাজাবাজার ও ইন্দিরা রোড এলাকায় গণসংযোগ করেন। পরে আছরের নামাজের পর তেজকুনি পাড়া ও মনিপুরী পাড়া এলাকায় গণসংযোগ অব্যাহত রাখেন। এ সময় এলাকাজুড়ে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়।

গণসংযোগকালে সাইফুল হক বলেন, “রাজনীতি আমার জন্য কোনো ব্যবসা নয়, এটি আমার কাছে ইবাদতের সমান। জনগণের কল্যাণ ছাড়া আমার অন্য কোনো লক্ষ্য বা স্বার্থ নেই।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা-১২ আসনের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এই এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকের দৌরাত্ম্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ক্ষমতায় গেলে এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমার অগ্রাধিকার।”
পরিচ্ছন্নতা ও নগর ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঢাকা-১২ আসনে যে পরিমাণ আবর্জনা জমেছে, তা পরিষ্কার করতে কোদাল ছাড়া আর কোনো প্রতীক কার্যকর হতে পারে না।” এ সময় তিনি কোদাল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু একটি ভোটের লড়াই নয়, এটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই। এটি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণের রায়।” তিনি অভিযোগ করেন, “যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
হাতিরঝিল প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, “হাতিরঝিল ঢাকার ফুসফুস। একে অবহেলা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে একটি আধুনিক ও নিরাপদ বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।” এ বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গণসংযোগ কর্মসূচিতে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর, শেরে বাংলা নগর থানা ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ ভোটারদের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষায় কোদাল প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরাসরি জনগণের কাছে গিয়ে ভোটের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং মাঠে শক্ত অবস্থান জানান দেওয়াই এ গণসংযোগ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।



