পিআর দাবি পূরণ না হলেও নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত

বঙ্গবার্তা প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির দাবি জোরালো করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে এ দাবি বাস্তবায়িত না হলেও দলটি ভোট থেকে সরে দাঁড়াবে না বলে স্পষ্ট করেছে শীর্ষ নেতারা।
দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচন বয়কট নয় বরং অংশগ্রহণই তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত। ইতোমধ্যে ৩০০ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে এবং তারা নিজ নিজ এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং অনলাইন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা সংসদেও ছিলাম, আবার রাজপথেও আন্দোলন করেছি। তাই আন্দোলন ও নির্বাচন—দুটোই আমাদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। সংস্কার দাবি থাকবেই, কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও সমানভাবে চলছে।”
একইভাবে আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াত। তার ভাষায়, “নির্বাচনই তো সমাধান। নির্বাচন ছাড়া দেশ চলবে না। তাই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে দ্বিধা নেই।”
দলটির সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে সম্ভাব্য জোট গঠনের আলোচনা চলছে। তবে তফসিল ঘোষণার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নাও যেতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত তাদের দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে এবং জনগণকে নতুন ভোটপদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করতে চাইছে। তবে বাস্তবে ফেব্রুয়ারির মধ্যে পিআর পদ্ধতি চালুর সুযোগ নেই। বিশ্লেষকদের ধারণা, দাবি মানা না হলেও জামায়াত শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দলটি ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন।
২. সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু।
৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত।
৪. সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার।
৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
সব মিলিয়ে জামায়াত নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজপথে সক্রিয় থাকলেও চূড়ান্ত লক্ষ্য ভোটে অংশগ্রহণ এবং সংসদে প্রত্যাবর্তন।



