চলতি বছরেই কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলতি বছরের মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

ওভাল অফিসে আয়োজিত ওই বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভবিষ্যতে উপযুক্ত সময়ে কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করার অপেক্ষায় আছি। আমি তার সঙ্গে এই বছরই আলোচনায় বসতে চাই।”

প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে (২০১৭–২০২১) তিনি কিম জং উনের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছিলেন। তবে একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পরও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে কোনও কার্যকর চুক্তি হয়নি।

এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। গত জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা দক্ষিণ কোরীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্কের চাপ অনেকটাই কমিয়েছে। তবুও সামরিক ব্যয়, পারমাণবিক কৌশল ও ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

লি জে মিউংয়ের এই সফরে কোরিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কোরিয়ান এয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্ডার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১০৩টি বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছে।

ট্রাম্পের কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া প্রমাণ করে, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হচ্ছে কোরীয় উপদ্বীপে দখলদারি কায়েম করা।

লি জে মিউং হোয়াইট হাউস সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আপনি কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে পারবেন। আপনি যদি উত্তর কোরিয়ায় ‘ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড’ গড়েন, আমি সেখানে গলফ খেলতে চাই।”

লি আরও জানান, বৈঠকের আগে তিনি ট্রাম্পের ১৯৮৭ সালের আত্মজীবনী ট্রাম্প: দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’ পড়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

দুই নেতা জাহাজ নির্মাণ শিল্প, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও নিজেদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হত্যাচেষ্টার বিষয়েও আলোচনা করেন। পাশাপাশি, লি জে মিউং আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপিইসি) সম্মেলনে অংশ নিতে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানান এবং ওই সময় কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য চেষ্টা করার প্রস্তাব দেন।

ওয়াশিংটনে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর একটি আলোচনায় অংশ নিয়ে লি বলেন, “বহু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া বছরে ১০ থেকে ২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে।” তিনি আরও সতর্ক করেন যে, এ অস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারের জন্য উত্তর কোরিয়াকে কেবল একটি নিখুঁত রিএন্ট্রি যান তৈরি করতে হবে।

বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার আবহে ট্রাম্প-কিম সম্ভাব্য বৈঠক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। তবে উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া ও বৈঠকের বাস্তবায়ন এখন সময়ের অপেক্ষা। সূত্র: রয়টার্স

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button