তৃণমূলের কোচদের আধুনিক ক্রিকেট শেখাতে নতুন উদ্যোগ বিসিবির
শীর্ষ পর্যায়ে মৌলিক ঘাটতি কমাতে জেলা-ভিত্তিক রিফ্রেশার্স কোর্স
বঙ্গবার্তা ডেস্ক: বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ঘরোয়া পর্যায় থেকে উঠে আসা অনেক খেলোয়াড় জাতীয় দলে পৌঁছেও মৌলিক টেকনিক্যাল ঘাটতি নিয়ে আসেন। এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শুরু করেছে কোচদের জন্য বিশেষ রিফ্রেশার্স কোর্স, যাতে তৃণমূল থেকেই আধুনিক ক্রিকেট কোচিং নিশ্চিত করা যায়।
গত জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ চলছে দেশের ৬৪ জেলা ও ৮ বিভাগের বিসিবি-নিয়োগপ্রাপ্ত কোচদের নিয়ে। রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে কোর্স সম্পন্ন হয়েছে, বাকি রয়েছে শুধু ঢাকা ও ঢাকা মহানগরের ব্যাচ।
প্রতি ব্যাচে থাকছেন ২০-২২ জন কোচ। দুই থেকে তিন দিনের এই কোর্সে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন জাতীয় দলের সহকারী ও বিশেষায়িত কোচরা – মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সোহেল ইসলাম, তালহা জুবায়ের, মেহরাব হোসেন ও ট্রেনার মোর্শেদ হাসানসহ অভিজ্ঞ কোচরা।
বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের হেড অব অপারেশনস হাবিবুল বাশার জানান, “প্রতি বছর এ ধরনের কোর্স আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তৃণমূলের কোচিং আধুনিকভাবে এগিয়ে নিতে আমরা চাই বিদেশি কোচিং স্টাফদেরও যুক্ত করতে।”
কোচদের মাঝেও এই উদ্যোগে এসেছে নতুন আত্মবিশ্বাস। যশোরের কোচ আজিমুল হক বলেন, “আধুনিক কোচিং নিয়ে অনেক কিছু শিখেছি, মৌলিক অনেক বিভ্রান্তি দূর হয়েছে। আশা করি কয়েক বছরের মধ্যে আর কেউ মৌলিক ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ তুলতে পারবে না।”
সাবেক ওপেনার ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোচ নাজিমউদ্দিনের ভাষায়, “ক্রিকেট প্রতিদিন বদলাচ্ছে। কোর্সে যা শিখেছি, তা ভবিষ্যতে তৃণমূল ক্রিকেটে কাজে দেবে, বিশেষ করে ট্রেনার না থাকার জায়গাগুলোয় মৌলিক ফিটনেস ট্রেনিং খুব উপকার করবে।”
মূলত ঘরোয়া ও জাতীয় দলের কোচিংয়ের ফারাক ঘোচাতে এই রিফ্রেশার্স কোর্সের আয়োজন। এখন দেখার বিষয়—তৃণমূলের কোচরা শেখা কৌশল বাস্তবে কতটা কাজে লাগাতে পারেন।



