আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল: জানাজা কাল, দাফন জিয়ার পাশে; বিএনপির ৭ দিনের শোক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান, নাতনী জাইমা রহমান, ছোট ছেলের স্ত্রী শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে জাতি হারালো এক দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীককে। সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং নারী নেতৃত্বে অগ্রগামী ভূমিকার জন্য তিনি ছিলেন দেশের ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের নাম। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
জানাজা বুধবার, দাফন জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে
পরিবার ও দলের সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। জানাজা শেষে তাকে বনানীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানাজার সুনির্দিষ্ট সময় পরে জানানো হবে।
বিএনপিতে ৭ দিনের শোক
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি ৭ দিনের শোক ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এছাড়া আজ সকালে যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক এবং দুপুরে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দাফনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এক যুগের সমাপ্তি
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তাঁর নেতৃত্ব, সংগ্রাম আর আপসহীন অবস্থানের স্মৃতি থাকুক আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণায়।



