হাসিনার ফাঁসির রায় দেখার অপেক্ষায় পুরো জাতি

আবদুর রহিম: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আগামী ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকায় দেশের নানা প্রান্তে স্বজন হারানো শহীদ পরিবার, অধিকর্তা ও মানবাধিকার প্রত্যাশীরা বিচারের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে ধরাছোঁয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিচারপ্রক্রিয়ার কথাবার্তা ও ক্ষতগ্রস্ত পরিবারগুলোর আবেগ-অনুভূতির মিশেলে ‘গণহত্যা মামলায়’ ভাবগম্ভীর পরিবেশ দেখা গেছে।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবার রায়ের দিন ধার্য করা হবে হারানো জীবনের সত্যতা এবং দায়-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগপক্ষ জানিয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই হাজার হাজার পরিবার রায়ের সর্বোচ্চ ও দ্রুত বাস্তবায়ন চান বলে সংবাদভিত্তিক অভিযোক্তারা দাবি করছেন।
শহীদ পরিবারদের কণ্ঠে একটাই দাবি: কান্ডের ন্যায্য বিচার ও রায় দ্রুত কার্যকরী করা হোক। কাজী লুলুন মাকমিন, শহীদ শেখ ফাহমিন জাফরের মা, বলেন, “এখন ১৪ মাস হয়ে গেল, আমরা আর অপেক্ষা করতে পারছি না। আমাদের সন্তানদের জনসম্মুখে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তার বিচার না করলে কী লাভ?” তিনি আশা করেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে যেন ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয় এবং দ্রুত রায় কার্যকর করা হয়।
শহীদ নাজমুল ইসলামের ছোটভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই নিরপরাধ, রাজনীতি জানত না। জুলাই মাসে যখন সাধারণ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, আমার ভাই ছিল সরল একজন। নির্দিষ্ট নির্দেশে তাকে নিহত করা হয়েছে আমরা চাই দণ্ডমূলক রায় দেখার পরই শান্তি পাব।” তিনি গ্রাম থেকে উঠে আসা কষ্টবর্ণনা করে বলেন, রায় কার্যকর না হলে পরিবারগুলো কখনই মানসিক শান্তি খুঁজে পাবে না।
অন্য এক শোকসন্তপরিবার, শহীদ মিনহাজ উদ্দিনের বাবা আলাউদ্দিন বলেন, “বাবারা সবাই চান বাবার লাশ সন্তানের কাঁধে বহন করুক। কিন্তু আমাকে আমার সন্তানের লাশ নিজ কাঁধে বহন করতে হয়েছে। হাসিনা সরকার জানাজা পর্যন্ত আমাদের ছাড়েনি। তাই আমরা চাই বিচারের পূর্ণ বাস্তবায়ন।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, “দীর্ঘ পরিশ্রম ও প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল আজ রায় দেবে আমরা আশা করি এটি হবে বিচারসঙ্গত ও দৃষ্টান্তমূলক। শুধু ২৪-এর ঘটনাই নয়, গত সতেরো বছরে গুম-হত্যা ও নিপীড়নের বিষয়গুলোও বিচার মিলুক।” তিনি দাবি করেন যে, রায়কে যেন এমনভাবে কার্যকর করা হয় যে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক শক্তি যেন জনগণের ওপর নির্বিচারে বল প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে না পারে।
রায় ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট। শহীদ পরিবার ও ক্ষতগ্রস্ত মানুষদের আবেগ প্রবল কেউ কেউ দ্রুততম বিচার ও রায়ের বাস্তবায়ন চাইছেন, আবার নিরপেক্ষ ও আইনি প্রক্রিয়ার সঠিক অনুসরণকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকে যাতে বিচারে কোনরকম অনিয়ম বা পক্ষপাত দেখা না যায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপক্ষের তদন্তে গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে নানা অপরাধের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালতীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিচারের উত্তরের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে চাপ বাড়তে পারে শহীদ পরিবারগুলো ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় একদিকে দমবন্ধ করা উত্তরে দাঁড়িয়ে আছে, অন্যদিকে আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর অনেকে জোর দিচ্ছেন।
ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার দিন (১৩ নভেম্বর) সামনে রেখে শহীদ পরিবার, সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা তাছাড়া বিচারের ফলাফল ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং জনমানসে বিশেষ প্রতিধ্বনি ফেলতে পারে ।
ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে তা দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ন্যায়বিচারের পথ রচিত করবে এটাই প্রত্যাশা ভূমিকা রাখা শহীদ পরিবার ও নাগরিক সমাজের।



