মহাখালী বাস টার্মিনালে ঢাকা-১৭ নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আলমগীর হুসাইন: ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। তিনি মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা মালিক-শ্রমিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উন্নয়ন চাই। সেই উন্নয়নের স্বার্থেই ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
তিনি বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালকে কীভাবে আধুনিকায়ন করা যায় এবং একই সঙ্গে শ্রমিক ও মালিকদের স্বার্থ কীভাবে অক্ষুণ্ন রাখা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করে একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে যাত্রীসেবায় যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি না বাড়ে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আপনারা শ্রম দেবেন, আপনারা অর্জন করবেন কিন্তু সে অর্জনে যেন অন্যায় বা জুলুম না থাকে।
আব্দুস সালাম আরও বলেন, ধানের শীষের প্রতিপক্ষরা দেশ পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা রাখে না। অথচ তারা বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তারা অতীতে ঢাকা থেকে একটি আসনও পায়নি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। একাত্তরে তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, খালেদা জিয়া দেশ চালিয়েছেন এবার তারেক রহমানকে দেখার পালা। তিনি অবশ্যই একটি উন্নত বাংলাদেশ উপহার দেবেন।
তিনি বলেন, সবার আগে দেশ। দেশকে বাঁচাতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। গত ১৭ বছর মালিক-শ্রমিক সবাই কষ্টে ছিলেন। করোনাকালে মানুষ না খেয়ে থেকেছে, অথচ তখনকার সরকার মালিক-শ্রমিক কারো পাশেই দাঁড়ায়নি। আমরা আর সে ধরনের সরকার চাই না।
তিনি আরও বলেন, যার কাজ সে ভালো বোঝে। পরিবহন খাত পরিচালনা মালিক-শ্রমিকদের দায়িত্ব, আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপনারা যাতে নির্বিঘ্নে আপনাদের কাজ করতে পারেন সে নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১৭ এর যুগ্ম সমন্বয়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, গত ১৭ বছরে মহাখালী বাস টার্মিনালে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। ১৭ বছর আগের অবস্থাই এখনো রয়ে গেছে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি বিএনপির রাজনীতির অংশ নয়। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন নানা অপমানের শিকার হলেও কখনো প্রতিশোধমূলক ভাষা ব্যবহার করেননি – এটাই বিএনপির আদর্শ।
তিনি বলেন, তারেক রহমান কাউকে আক্রমণ করেন না, বরং জনগণের সামনে উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তার কাছ থেকে আমাদের শেখা উচিত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ ইউসুফ মৃধা। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজিমুদ্দিন আলম, কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম, বাস মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ, শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি হুমায়ুন কবির খান, ঢাকা সড়ক পরিবহনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে মালিক ও শ্রমিকরা মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো এলাকা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।



