গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থানে বাধা দিচ্ছে একটি মহল: ফখরুল

আলমগীর হুসাইনঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, সরকারের ভেতরে এখনো এমন একটি মহল সক্রিয় রয়েছে যারা গণতন্ত্রকামী শক্তির উত্থান ঠেকাতে কাজ করছে। তিনি বলেন, এই মহল কখনোই চায় না যাতে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করা রাজনৈতিক শক্তিগুলো ক্ষমতায় আসতে পারে।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। কোথাও কোনও বাধা সৃষ্টি করিনি বা বড় কোনও দাবি তুলে সরকারকে বিপদে ফেলিনি। কিন্তু এখন কিছু রাজনৈতিক মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন নিয়ে নতুন নতুন দাবি তুলে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে।”
সংখ্যানুপাতিক ভোট ব্যবস্থা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “পিআর (Proportional Representation) ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কাছে অপরিচিত। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, কারণ মানুষ যাকে ভোট দিলো, তা সংসদে প্রতিফলিত না-ও হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ৫ তারিখের পরই বলেছিলাম, তিন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। তখন একটি নতুন সরকার গঠিত হয়ে সংস্কারের কাজ শুরু করতে পারতো। কিন্তু সময়ক্ষেপণের ফলে আজ অন্যরা সুযোগ নিচ্ছে।”
দেশে ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকাল প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে ১ লাখ টাকা দিলেই কাজ হতো, এখন লাগে ৫ লাখ। রাজনৈতিক নেতারাও এই অনিয়মের অংশ হয়ে পড়ছেন, যা দেশের জন্য আরও ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
একাত্তরের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “আজকাল একাত্তরের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। যারা তখন সহযোগিতা করেছে, তারাই এখন বড় বড় কথা বলছে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে, কারণ মনে করার সুযোগ নেই যে সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে।”
দেশকে রক্ষা করতে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।



