টানা ১০ দিন ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঘেরাও করে আন্দোলনে স্বাস্থ্য সহকারীরা
জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক: নিয়োগবিধি সংশোধন, বেতন বৈষম্য দূরীকরণ ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবিতে টানা দশম দিনের মতো রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গড়িমসির প্রতিবাদে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই তারা বিভিন্ন স্লোগানে অধিদপ্তর চত্বর মুখর করে রাখেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সারা দেশের স্বাস্থ্য সহকারীরা ঢাকায় সমবেত হয়ে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তাদের দাবি, প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষকে তারা সব সময় সেবা দিতে চেয়েছেন। কিন্তু ২৭ বছর ধরে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

স্বাস্থ্য সহকারীদের অভিযোগ, তাদের দাবির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বারবার ভুল তথ্য দিয়ে ফাইল পাঠাচ্ছেন, যা মন্ত্রণালয় থেকে ফেরত আসে। এমনকি ১৯৮৫ সালে স্বাস্থ্য সহকারীর পদ সৃষ্টির সরকারি জিওটিও নথিপত্র থেকে ‘অদৃশ্য’ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ তাদের।
ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা (এসআইটি) সম্পন্ন দুই হাজারের বেশি স্বাস্থ্য সহকারী জানান, তাদের ডিপ্লোমা আজও সমমান হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। তারা নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক বা সমমান যোগ্যতা যুক্ত করা, ১৪তম গ্রেড প্রদান, ডিপ্লোমাধারীদের ১১তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্তি, টেকনিক্যাল পদমর্যাদা, ধারাবাহিক পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন চান।
স্বাস্থ্য সহকারীরা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, গর্ভবতী ও নবজাতকের তথ্য সংগ্রহ, যক্ষ্মা রোগী শনাক্তকরণ, ডটস পদ্ধতিতে ওষুধ প্রদান, উঠান বৈঠক, মা সমাবেশসহ মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সপ্তাহে তিন দিন কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত সেবাও দিতে হয়। কিন্তু তাদের ভ্রমণভাতা মাত্র ৬০০ টাকা এবং বেতন শুরু হয় ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে যা একই ব্যাচের অন্য পদে থাকা কর্মীরা বহু আগেই অতিক্রম করে গেছেন।

বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুল হক চৌধুরী জানান, “আমাদের ফাইল ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জিও প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে। দেশের তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ন্যায্য দাবি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এমন প্রত্যাশা করি।”
চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে আসা স্বাস্থ্য সহকারী রাশেদুল ইসলাম স্বপন বলেন,
“টানা ১০ দিন শীতের মধ্যে বসে আছি। আমাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আশাব্যঞ্জক কিছু পাইনি। আমাদের দাবি দ্রুত মেনে নিলে আমরা আবার মাঠে ফিরে মানুষের সেবা দিতে পারব।”
আন্দোলনের কারণে সারাদেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে টিকা নিতে এসে বহু মা ও শিশুকে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়বে বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য সহকারীরা।



