উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে রহস্যময় কন্যা? কিম জু-এ কে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সাম্প্রতিক চীন সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, এই ঐতিহাসিক সফরে তিনি তার কন্যা কিম জু-এ-কে সঙ্গে নিয়েছেন। মাত্র ১২ বছর বয়সী এই কিশোরীকে নিয়ে এখন অনেকেই মনে করছেন, উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে বসতে যাচ্ছেন তিনিই।
কিম জু-এ হলেন কিম জং উনের সেই কন্যা, যাকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে “প্রিয় কন্যা” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ২০২২ সালের শেষদিক থেকে তাকে দেখা যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কুচকাওয়াজ, অস্ত্র পরীক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিতে। আর এবার আন্তর্জাতিক সফরেও তার অংশগ্রহণ সেই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল কিম জং উনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো জানায়, জু-এ হতে পারেন কিমের উত্তরসূরী। আর এবার চীন সফরে তাকে সঙ্গে নেয়া বিশ্ববাসীর কাছে এই বার্তাটিকেই স্পষ্ট করছে।
সিউলভিত্তিক ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজ-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াং মুজিন মনে করেন, “সম্ভবত কিম মেয়েকে চীনের নেতৃত্বের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়েছেন। চীন হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় মিত্র।”
একই মত দিয়েছেন সেজং ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক চং সিয়ং চ্যাং, যিনি জানান, বেইজিং রেলওয়ে স্টেশনের দৃশ্য থেকেই বোঝা যায়, জু-এ এখন শুধু ঘরোয়া রাজনীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
এর আগেও কিম পরিবারের ইতিহাসে এমন ঘটনা দেখা গেছে। কিম জং ইল ১৯৮৩ সালে নিজের ছেলে কিম জং উনকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন চীন সফরে। ফলে কিম জু-এ-কে একইভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা কিম পরিবারের এক পরীক্ষিত কৌশল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যদিও উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এটাই ইঙ্গিত করছে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে কিম জু-এ-কে। আর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে, এটি হবে উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সর্বোচ্চ ক্ষমতায় আরোহন।



