ইজিবাইক-ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে সরকার ‘নিরুপায়’

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ দেশের সড়কে নছিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট দিন দিন বেড়েই চলেছে। যদিও সরকার এ ধরনের যানবাহনকে ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তবে এগুলো উচ্ছেদে কোনো সরকারই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বিগত দেড় দশকের বেশি সময়েও সফল হয়নি কোনো উদ্যোগ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বলছে, বর্তমানে দেশে বৈধ যানবাহনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬৪ লাখ। এর মধ্যে মাত্র ২ শতাংশেরও কম বাস ও মিনিবাস জাতীয় গণপরিবহন। বৈধ যানগুলোর প্রায় ৪৬ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ, অর্থাৎ চলাচলের অনুপযোগী। বিপরীতে, সরকারের হিসাবে ‘অবৈধ’ তিন চাকার যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে গণপরিবহনের অভাব এবং বিদ্যমান পরিবহনের করুণ অবস্থা জনগণকে বিকল্প পরিবহনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফলে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক জাতীয় যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব যানবাহনের অনেকটাই কারিগরিভাবে ত্রুটিপূর্ণ, যার কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৪১ জন। এর মধ্যে ৭৮৬ জনই ছিলেন তিন চাকার ছোট যানবাহনের আরোহী, যা মোট নিহতের প্রায় ২১ শতাংশ।

বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ২০২৪ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২৯৪ জন নিহত হন। এর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭২৩ জন ছিলেন তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী।

ছবি – সংগৃহীত

২০১৪ সাল থেকে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ করতে একাধিক সিদ্ধান্ত নিলেও, আজও তার বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালার খসড়া তৈরি করলেও, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিআরটিএ কর্মকর্তাদের মতে, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এসব যান একদিকে যেমন মানুষের কর্মসংস্থানের বড় উৎস, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ায় জননিরাপত্তার হুমকি।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনেও অগ্রগতি থেমে আছে

তিন চাকার যানবাহন উচ্ছেদে সোচ্চার বাস-ট্রাক মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজেদের মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন বন্ধে একেবারেই অনীহা দেখায়। বরং উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। ফলে সরকারও অনেক সময় পিছু হটতে বাধ্য হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের অরাজকতা ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর চাপের কারণে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ যেমন নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে প্রাণহানির আশঙ্কা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button