কারওয়ান বাজারে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুদের বিক্ষোভ, যান চলাচলে বিঘ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু শ্রমিকদের বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে রোববার সকালে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা সার্ক ফোয়ারা এলাকায় অবস্থান নেন, ফলে আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের দাবি, তারা মালয়েশিয়া সরকারের নির্ধারিত ২০২৪ সালের ৩১ মে’র সময়সীমার মধ্যে দেশত্যাগ করতে না পারায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ভিসা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও বিএমইটির ছাড়পত্র না পাওয়ায় তারা মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ঋণে জর্জরিত, তবু বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক শ্রমিক মো. কাওসার বলেন, “আমাদের ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা এখনো যেতে পারিনি। ৫-৬ লাখ টাকা খরচ করেছি, যার বেশিরভাগই ঋণ। এখন না যেতে পারলে সর্বস্ব হারাতে হবে।”
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া মাইন উদ্দিন বাবু বলেন, “সরকার আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।”
বিক্ষোভকারীদের পাঁচ দফা দাবি:
১. ২০২৪ সালের ৩১ মে’র আগে যাদের ই-ভিসা ইস্যু হয়েছে কিন্তু বিএমইটির ছাড়পত্র পাননি এবং যারা সব প্রক্রিয়া শেষ করেছেন, তাদের দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠাতে হবে।
২. নতুন সাক্ষাৎকার হোক বা না হোক, কোনো শ্রমিককে প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা যাবে না।
৩. সরকারকে একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে এবং লিখিতভাবে স্মারকলিপি দিতে হবে।
৪. প্রধান উপদেষ্টা ও প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই স্মারকলিপি জমা দিতে হবে।
৫. নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শ্রমিকদের পাঠানো সম্ভব না হলে, সরকারকে বিকল্প কর্মসংস্থান ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভকারীরা জানান, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন। এর ফলে জনজীবনে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



