তারেক স্রোতে ভাঙবে জামায়াত ঢেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে ফেরাকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে জেগে উঠেছে নতুন আশার আলো। ধারণা করা হচ্ছে, তার উপস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং জামায়াতের প্রভাব অনেকটাই কমে যাবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান নভেম্বরের দিকে দেশে ফিরতে পারেন। এর আগে তিনি ওমরাহ পালন করবেন। দেশে ফিরে তিনি প্রার্থী চূড়ান্তসহ নির্বাচনকেন্দ্রিক সব কার্যক্রম সরাসরি তদারক করবেন। এবার আর লন্ডন থেকে নয়, দেশ থেকেই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানান, প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকায় বাছাই প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে। বিএনপি নেতৃত্ব বলছে, যোগ্যতা, ত্যাগ এবং জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় দলটিতে তৈরি হয়েছে প্রজন্মগত ফাঁক। তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও জ্যেষ্ঠ নেতাদের অসন্তোষও বিবেচনায় রাখছে বিএনপি। এ কারণে প্রার্থী নির্ধারণে সতর্কভাবে এগোচ্ছে তারা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং প্রচারণা শুরু করেছে। তাদের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে জামায়াতের তৎপরতা বেড়ে গেলেও তারেক রহমান দেশে ফিরলে দৃশ্যপট বদলে যেতে পারে।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা জানান, “তারেক রহমান দেশে ফিরলেই সংগঠনগত প্রাণশক্তি ফিরে আসবে। খালেদা জিয়াও নির্বাচনী প্রচারে সীমিতভাবে অংশ নিতে পারেন। মা-ছেলের যুগল উপস্থিতি ধানের শীষের পক্ষে জনমত তৈরি করবে।”

জোট রাজনীতিতেও চলছে হিসাব-নিকাশ। গণতন্ত্র মঞ্চ, এলডিপি, গণফোরাম ও ১২ দলীয় জোট বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির আলোচনায় রয়েছে। তবে তারেক রহমান দেশে না ফেরা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “আগামী নির্বাচন হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। যে দল মাঠে সংগঠিতভাবে প্রচারে নামবে, জনগণের আস্থা পাবে, তারাই সফল হবে। তবে প্রতিযোগিতা যেন প্রতিহিংসায় না রূপ নেয়, সেটা সবারই খেয়াল রাখতে হবে।”

দেশের রাজনীতি এখন অনেকটাই অপেক্ষায় — কখন দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, আর তার প্রত্যাবর্তনে বিএনপি কতটা পুনর্জাগরণ ঘটাতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button